অতনু দাসঠাকুর

     প্রাচীন পৃথিবী

পৃথিবীটা যখন ধুঁকছে একটা চাকার উপর ভর করে
ভয় হয় কখন যেন ঐ চাকা খাদে না যায় পড়ে।
উদ্দেশ্যহীন জগতে জন্ম নেওয়াও যেন ব্যর্থতা
শিক্ষিত মানুষ হয়েও ক্রমশই বাড়ছে ভণ্ডতা, মূর্খতা।
এক এক সময় মনে হয় প্রকৃতির কাছেই ফিরে যায়
যারা সত্যিকারের দুর্বল তাদের এখানে স্থান নায়।
যখন পৃথিবীটা ছিল খুবই প্রাচীন ছিল মন্থর
বাড়ছে যতই আধুনিক সভ্যতা  হয়েছে যন্ত্রে  যন্ত্রর।
প্রাচীন কালে ছিল সত্যিকারের আনন্দ ছিল না ভয়
গাছপালারও এখন যা অবস্থা,সময় হয়ে চলেছে দুর্যয়।
প্রয়োজনীয় অক্সিজেন হয়তো আর পারছে না যোগাতে
গাছপালাহীন কে করবে বহন এই বৃহৎ পৃথিবীটাকে।
বায়ু,শব্দ,জল,আলো; দৃশ্য হচ্ছে সবই সমাজে দূষণ
তাদের প্রতি হচ্ছে না কেউ গোটা পৃথিবীতে সচেতন।
তাই তো বলি বর্তমান সমাজের যা এখন অবস্থা
আইন নিয়ম শৃঙ্খলার খুবই করুণ ব্যবস্থা।
জুয়া, মদ আর উদ্দাম নৃত্য করল দেশটাকে ছারখার
তা দেখে স্থির থাকে কি করে এই মায়াবী সংসার।
গরমকালে পড়ে না গরম শীতকালে থাকে না প্রভাব শীতের
অকালে পতন হয়েছে শুরু এমনকি এই প্রকৃতির।
পৃথিবী সম্পর্কে বলতে গেলে যা অবস্থা বড়ই করুণ
বিদ্বেষ বিভেদ না রেখে যদি পারো নতুন পৃথিবীকে গড়ুন।

          জয়শ্রী ও রাজশ্রী


ছিলাম আমি একটি রাজ্যের মনুষ্যত্বপূর্ণ রাজা
যথারীতি শ্রদ্ধা করত আমায় রাজ্যের সব প্রজা।
যা আদেশ করতাম, প্রজারা গ্রহণ করত স মাথা পেতে
আদেশ অমান্য করার ছিল না কারো মাথা ঘাড়ে
বাসতাম ভালো এক অতি সুন্দরীকে
যে পুরুষের কথার টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
তাই ছিল তার এক প্রকারের ক্ষুদ্র অহংকার।
মাঝে মাঝে সে আমায় করত অবিশ্বাস
আমি নাকি তার প্রতি রাখি না আশ্বাস।
বিভিন্ন কাজে রাজ্য চালাতে হতো অসুবিধা
একমাত্র ওর মধ্যে পেতাম রাজ্য চালানোর কল্পনা।
একদিন তাকে ভালবেসে, কিছু চাইলাম দিতে
কি জানি কি ভুল বুঝল গ্রহণ করল না সে।
যখন তাকে পেতাম নিজ আয়ত্তে একটু একা
সব কিছু ভুলে গিয়ে শুনতাম ওর সমস্ত কথা।
ওর কথা ভেবে ভেবে নিজেকে নিজে হারাতাম
কল্পনায় এটা রয়ে যাবে কিঞ্চিৎভাবে জানতাম।
ভালবাসার কথাটাই কোনদিন জানাইনি তাকে
তাই সেও হয়ত সাহস পায়নি বলতে আমাকে।
অবশেষে তার বিয়ের প্রস্তাব গৃহীত হল বাধ্য হয়ে
সত্যি কোনদিন তাকে চাইনি জীবনে হারাতে
বিয়ে করে সে পেল সোনার মতন সংসার
দুর্ভাগ্যই রয়ে গেল শেষ জীবনে আমার।
আজও আমার হৃদয়ে বাজে নুপূরের ধ্বনি জয়শ্রীর
এরাজ্য জীবনেতে এখন অমূল্য মনে হয়
রাজা হয়েও জীবন কাটছে এখন একটি ঋষির।